নতুন YouTuber দের জন্য কিছু কথা ও টিপস - BengaliTut.Com

Friday, February 15, 2019

নতুন YouTuber দের জন্য কিছু কথা ও টিপস


ইউটিউবে কাজ শুরুর আগে কিছু প্রাক-প্রস্তুতি আছে। সে বিষয়েই আগে বলবো। কাজ শুরু করার আগে আসলে বাস্তবিক কোন কাজ নেই। তবে আপনি কি কাজ করবেন সেটি গুছিয়ে নিতে হবে। কেউ কোন বিষয়ে সফল হলে অথবা কোন বিষয়ে ভালো লেগে গেলেই ইউটিউবে কাজ শুরু করবেন না, বরং প্রথমে নিজেকে প্রশ্ন করে নিন যে আপনি টেকনিক্যাল কি কি জানেন এবং যে বিষয়টি নিয়ে কাজ করবেন সেই সম্পর্কে আপনি কতটুকু জানেন। যে বিষয়ে আপনি ভালোভাবে জানেন সেই বিষয়েই কাজ করবেন, কারো সফলতা দেখে বিষয় নির্বাচন করবেন না। উদাহরণ হিসেবে বলতে পারি যে, কিছু সময় ধরে চাইনিজ ফানি ভিডিও অনুকরণে কাজ করে এদেশে অনেকেই সফল হয়েছেন তাই বলে আপনিও শুরু করবেননা। যারা প্রথমে ট্রেন্ডটা ধরতে পেরেছে তাদের কথা আলাদা। আপনি নতুন করে শুরু করার আগে নিজে ভাবুন যে আপনার মধ্যে রসবোধ আছে কিনা অথবা আপনি মনে মনে নতুন কোন ফানি বিষয় ক্রিয়েট করতে পারছেন কিনা। আপনার আশপাশে যেসব বিষয় আছে সেসব নিয়েই কাজ করার প্ল্যান করুন। যেমন উত্তরাঞ্চলের কারও যদি মাছ ধরার বিষয়টি ভালোও লাগে তবুও করা উচিত নয় কারণ তার রিসোর্স কম। সেক্ষেত্রে দক্ষিণাঞ্চলের যারা আছে তাদের জন্য বিষয়টি অনেক সহজ। আবার উত্তরাঞ্চলে হয়তো কৃষি অনেকটাই সহজ হবে। তার মানে ইউটিউবিং করার জন্য আগ্রহ এবং সহজলভ্যতা উভয়ই বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। দুটোর মিল হলে তখনই কাজ শুরু করুন। যেসব নিয়ে ইউটিউবে ইতোমধ্যে অনেক অনেক কাজ হয়ে গেছে সেগুলো নিয়ে কাজ না করাই ভালো। নতুন একটা আইডিয়া হতে পারে আপনার পুরো জীবনের পাথেয়। তাই নতুন বিষয় নিয়ে ভাবুন। আইডিয়া তৈরী করার সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় হচ্ছে যে আপনি এমন কোন আইডিয়া নিয়ে কাজ করবেন না যা কোন নির্দিষ্ট জাতি-ধর্ম-বর্ণের লোকজনই দেখবে, সেটা যে কোন বয়সেরেই হোকনা কেন। চাইল্ড এবং টিনএজদের টার্গেট করে কনটেন্ট বানালে তা দ্রুত ভিউ আসে, কারণ এরাই মুল ভিউয়ারস। এমন আইডিয়া নিন যা পৃথিবীর যে কোন প্রান্তের মানুষেরই দেখলে ভালো লাগবে। যেমন একটি বাজে আইডিয়া হচ্ছে ধর্মীয় বিষয় নিয়ে কাজ করা হোক তা হিন্দু বা মুসলমান। কারণ প্রথমেই আপনার দর্শককে একটা নির্দিষ্ট ধর্মে আটকে দিচ্ছেন। বিষয় নির্বাচন করা হয়ে গেলে এবারে ভাবুন টেকনিক্যাল বিষয়ে। ক্যামেরা, লাইট, এডিট এসবে আপনি কতটুকু পরিপূর্ণ তা চিন্তা করুন। আপনি যদি মুল ক্রিয়েটর হয়ে থাকেন তাহলে কমপক্ষে গ্রাফিক্স এবং এডিট জানতে হবে। তাই গ্রাফিক্স এবং এডিট না জেনে ইউটিউবিং শুরু করবেন না। তাহলে পদে পদে ধাক্কা খেতে হবে। ইউটিউব থেকেই গ্রাফিক্স এবং এডিটের উপর মাস তিনেক সময় দিন। মোটামুটি সাধারণ কাজ চালিয়ে নেয়ার মতো হলে তখন শুরু করতে পারেন।
ইউটিউবিং এর বিষয় এবং টেকনিক্যাল বিষয় নির্ধারিত হয়ে গেলে এবারে ইউটিউব এর দর্শকদের আচার-আচরণের দিকে মনোযোগ দিন। আপনি যে বিষয় নিয়ে ইউটিউবে কাজ করতে চান সেই বিষয়ে ইউটিউবে এরই মধ্যে কি কি চ্যানেল আছে তাদের খুঁজে বের করে তালিকা করুন। প্রতিদিন চ্যানেলগুলো ভিজিট করুন। তারা কিভাবে ভিডিও দিচ্ছে, কিভাবে বানাচ্ছে, কিভাবে থাম্বস টাইটেল দিচ্ছে সেটি খেয়াল করুন। কোন চ্যানেলে ঢুকে প্রথমেই চেক করে নেবেন যে চ্যানেলটি কবে তৈরী হয়েছে এবং তার সর্বোচ্চ ভিউ হওয়া ভিডিওটি কেমন। সর্বোচ্চ ভিউ হয়েছে যে পাঁচটি ভিডিও সেই ভিডিওগুলো সম্ভব হলে ডাউনলোড করে নিন থাম্বনেইল সহ। প্রতিটি চ্যানেলের পাঁচটি করে ভিডিও নিয়ে কেন সেগুলো মানুষ এতো বেশী দেখলো সেটি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করুন। আপনি প্রথম যে পাঁচটি ভিডিও বানাবেন সেই পাঁচটি ভিডিও যাতে সবগুলো ডাউনলোড করা সবচেয়ে বেশী দেখা পাঁচটি ভিডিওর মতো হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। তাদের মতো করে থাম্বনেইল বানান, তাদের মতো করে এসইও করুন, টাইটেলও ফলো করুন (কপি নয়)। মনে রাখবেন প্রতিযোগীতায় টিকতে হলে প্রতিযোগী কতদুর গেলো সেটা জানা জরুরী, ইউটিউবিং একটি প্রতিযোগিতা ছাড়া আর কিছু নয়।
এখনো কিন্তু আপনি ভিডিও বানাননি। ধরে নিলাম আপনি ভিডিও বানাতে শুরু করেছেন। না থামুন, এখনি নয়। ভিডিও বানাতে গেলে আপনাকে সবার আগে জানতে হবে কপিরাইট নিয়ে। কপিরাইটের তিনটি ধরণ আছে, তা হলো ক্লেইম, ব্লক ও ষ্ট্রাইক। ক্লেইম হলে কি কি সমস্যা হতে পারে, মনিটাইজেশনের জন্য সেটি কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ তা আগে জানুন। ব্লক হলে কি করতে হবে সেটিও জানুন। কি কি কাজ করলে ষ্ট্রাইক পেতে পারেন সেটিও আপনাকে গুরুত্ব সহকারে জানতে হবে। মুলত সব আশা-ভরসা শেষ হয় ষ্ট্রাইকের কারণে তাই ষ্ট্রাইক এড়ানোর জন্য কি করবেন অথবা ষ্ট্রাইক হয়ে গেলে কি করবেন সে নিয়ে কনটেন্ট বানানোর আগেই জেনে নেবেন। যদিও আপনি চুরি-দারি না করলে ষ্ট্রাইকের কোন প্রশ্ন থাকেনা, তারপরো জানতে হবে, কারণ অনেকেই নিজের কনটেন্টেও ষ্ট্রাইক পায়, কারণ তারা ষ্ট্রাইকের পরিধি জানেনা। যেমন কোন সফটওয়্যার হ্যাক নিয়ে নিজে ভিডিও বানালেও ষ্ট্রাইক পেতেই পারেন। বোকারা ঠকে শেখে, আপনি নিশ্চই বোকার তালিকায় নাম লেখাতে চাইবেন না।
ধরে নিয়েছি আপনি কপিরাইট জেনে গেছেন। এবারে ভিডিও বানিয়ে বড়দের ফলো করে আপলোড করা শুরু করেছেন। আপনার ভিউ, সাব আসবেই তা নিশ্চিত থাকুন, যদি আপনি উপরের ষ্টেপগুলো ফলো করে ভিডিও বানিয়ে থাকেন। মনিটাইজেশনের জন্য আবেদন কখন কিভাবে করবেন তাও জেনে নেবেন আপলোড করার সাথে সাথেই। আবার ইউটিউবের জন্য ভিডিও যখন বানালেনেই তখন অন্যান্য মাধ্যম যেমন ফেসবুকের জন্য এই ভিডিওটি কিভাবে তৈরী করবেন তা নিয়ে চিন্তা করুন। কারণ ফেসবুকও এখন মনিটাইজেশন দিচ্ছে। আপলোড হয়ে গেলো কিন্তু দশ-বারোটা’র বেশী ভিউ হচ্ছেনা। কোন সমস্যা নেই। আপনি যদি আসলেই ভিউয়ারসদের মেজাজ-মর্জি অনুযায়ী ভিডিও বানিয়ে থাকেন তাহলে ভিউ-সাবের স্রোত আসা সময়ের ব্যাপার। ভালো কনটেন্টের জন্য কোন প্রকার প্রমোশনের দরকার হয় না। প্রমোশন, বুষ্ট, এন্ডস্ক্রীণ সাপোর্ট এসব আমার কাছে অপ্রয়োজনীয় বিষয় বলে মনে হয়। কনটেন্ট বানানোর ক্ষেত্রে আমরা যে ভুলটি করি তা হলো আমরা মনে করি যে আমার কনটেন্টটি ভালো হয়েছে। কিন্তু আসলে ভালো হয়নি। নিজে খেটে একটা কনটেন্ট বানালে সেটি নিজের কাছে ভালো অবশ্যই লাগে, তবে তা দর্শকের কাছে ভালো হলো কিনা সেটাই মুখ্য। এই জায়গাটায় ভুল করলেই শতশত কনটেন্ট বানালেও বা শত রকমের প্রোমোট করলেও ভিউ সাব আসবেনা। আর এটা বোঝার উপায় হচ্ছে ভালো ভিডিওগুলো পর্যবেক্ষণ করে দর্শকদের রুচির একটা হিসাব বের করে নেয়া। যার হিসাব যতো বেশী সঠিক সে তত দ্রুত সাব-ভিউ পাবে। এই একটি পদ্ধতি ছাড়া আর কোন পদ্ধতি নেই যার দ্বারা আপনি সাব-ভিউ বাড়াতে পারবেন। শুধুমাত্র পর্যবেক্ষণের সঠিক ফলাফলই আপনাকে সফলতা এনে দিতে পারে। পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি ইউটিউবের টিপস এন্ড ট্রিকগুলোও শিখে ফেলুন ধীরে ধীরে। মোদ্দকথা ইউটিউবিং শুরুর আগে মাস ছয়েকের একটা প্রস্তুতি নিয়ে শুরু করুন। মনে রাখবেন এটি একটি পুরোদস্তুর পেশা, এখন আর ইউটিউবিং হেলাফেলা ধরণের কোন কাজ নয়। এটা লাইফ সেটেল্ড বা ধংস দুটোই করতে পারে।
ইউটিউবে অসংখ্য ভিডিও বানানোর চাইতে বরং পর্যবেক্ষণ করে কয়েক মাস পর একটা ভিডিও বানানো অনেক ভালো। আমি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, মানুষ কিছু বিষয় খুব পছন্দ করে যেমন দু:খজনক কোন ঘটনা, পুরোনো স্মৃতি জাগানিয়া কিছু, খুব মেলোডিয়াস সুর, চরম আশ্চর্যজনক কিছু যা কখনো সাধারণভাবে শোনা যায়নি, বড় সাইজে কোন কিছুর তথ্য যেমন বড় বিমান বা জাহাজ, ফেইলড টাইপের ভিডিও, ছোট হতে বড় হয়ে সফল হওয়ার কথা এসব।
দুজন ভালো ইউটিবারের কথা এখানে উল্লেখ না করলেই নয়, এর মধ্যে কোলকাতার Biswajit Mondal যিনি স্বর্ণ শিল্পী। স্বর্ণলংকার বানানো নিয়ে তার ইউনিক চ্যানেল। এবং আমাদের দেশে Monir's Days নামে একটি চ্যানেল আছে যে বিমান নিয়ে চ্যানেল বানিয়েছে। দুজনের চ্যানেলের কনটেন্ট আইডিয়া আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে, যা ইউনিক এবং সারা জীবনের সঞ্চয়। এভাবেই কিছু করুন।
আজকের মত এখানেই শেষ করছি, ভালোলাগলে পোস্ট টা শেয়ার করুন আর কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করে জানান।

No comments:

Post a Comment